মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

সাত মোড়া মনমোহন সাধুর আশ্রম, সাতমোড়া, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

মনমোহন দত্ত (১৮৭৭-১৯০৯) সাধক ও ভাবসঙ্গীতকার। ‘মনোমোহন সাধু’ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭) ১০ মাঘ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার সাতমোড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা পদ্মনাথ দত্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ। গ্রামের রামজীবন চক্রবর্তীর পাঠশালা থেকে ছাত্রবৃত্তি পাস করে মনমোহন মুরাদনগর উচ্চ  বিদ্যালয়ে ভর্তি হন, কিন্তু অর্থাভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি তিন বছর (১৮৯৬-১৮৯৯) মোক্তারি পড়েন।

 

আঠারো বছর বয়সে মনমোহন কালিকচ্ছ গ্রামের সর্বধর্মসমন্বয়বাদী সাধক আনন্দস্বামীর সহচর্যে থেকে সংসারের প্রতি বিরাগী হয়ে ওঠেন। অতঃপর  চট্টগ্রাম মাইজভান্ডারের পীর মাওলানা অঅহমদউলস্নাহর সান্নিধ্যে গিয়ে তিনি তাঁর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। মাইজভান্ডারের পরিবেশ তাঁকে অধ্যাত্মসঙ্গীত রচনায় উদ্বুদ্ধ করে। তিনি এধারায় গান রচনা করে সাধু ও সুজ্জন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা ৮৫০।

 

মনমোহন দত্ত নিয়মিত কুরআন ও বাইবেল পড়তেন;বেদ-বেদামেত্ম তাঁর ব্যুৎপত্তি ছিল। তাঁর গানের একটি  উক্তি হলো: ‘কোরান পুরান আদি বাইবেল কি বেদ, সবে ফুকঁকারিয়ংা কয়, তার অবিচ্ছেদ। ‘তিনি গুরম্নর নামে আনন্দাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন; সেখানে প্রতিরাতে জলসা হতো। পরবর্তীকালে  মনমোহনের জন্মোৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর ১০ মাঘ ভক্তরা তাঁর গান পরিবেশন করতেন। তাঁর একমাত্র সমত্মান সুধীচন্দ্র দত্ত আশ্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

 

মনমোহনের শিষ্যবর্গের মধ্যে খ্যাতনামা সুরকার আঢতাবউদ্দিন খাঁ, ওসত্মাদ গুল মোহাম্মদ খাঁ, নিশিকামত্ম সেন ও লবচন্দত্র পালের নাম উলে।লখযোগ্য। আফতাবউদ্দিন মনমোহনের গানে সুরারোপ করেন। মনমোহনের প্রথম সঙ্গীত সংকলন মলয়া (২খন্ড); অন্যসান্য উলেস্নখযোগ্য গ্রন্ঞ হচ্ছে পথিক, পাথেয়, কথামৃত, যোপ্রণালী, খনি ইত্যাদি। ১৩১৬ বঙ্গাব্দের (১৯০৯) ২০ আশ্বিন তিনি পরলোক গমন করেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী লাশ কবর দেওয়া হয়।